#Dengue
(দ্বিতীয় পর্ব)
ডেঙ্গী রোগের চিকিৎসা
ধাপে ধাপে Mamagement:
ধাপ ১:সার্বিক মূল্যায়ন
* প্রথমত ভালমত রোগীর রোগের ইতিহাস নেব যেখানে থাকবে,
কবে হতে জ্বর বা অসুস্থতা শুরু হয়েছে
কী পরিমাণে মুখে তরল খাবার খেয়েছে
পাতলা পায়খানা হয়েছে কিনা
পেশাবের পরিমাণ,কতবার করেছে,কখন শেষ পেশাব করেছে
বিপদচিহ্নের মূল্যায়ন
মানসিক অবস্থা,খিচুনি,মাথা ঝিমঝিম আছে কিনা
এছাড়া আরো অন্যান্য বিষয় যেমন বাড়ীর পাশের কেউ ডেঙ্গী আক্রান্ত হয়েছে কিনা,গর্ভবতী কিনা,ডায়বেটিস আছে কি না ইত্যাদি ইতিহাস নিতে হবে।
*শারিরীক পরীক্ষা নীরিক্ষা:
রোগীর মানসিক অবস্থা কেমন
শরীরে পানির অবস্থার মূল্যায়ন
Haemodyynamic অবস্থার মূল্যায়ন
শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি
পেটে কোথাও ব্যথা পায় কিসা,যকৃত বড় কিনা,ফুসফুসের পর্দা বা পেটের পর্দায় কোন তরল আছে কিনা(Pleural efgusion & Ascities)
শরীরের rash আছে কি না কা কোন রক্তপাতের চিহ্ন আছে কিনা?
Tourniquet Test করতে হবে।
* Investigation: কিছু রুটিন টেস্ট করতে হবে এবং ডেঙ্গী স্পেসিফিক কিছু test করতে হবে যা প্রথম পর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
ধাপ ২: রোগ নির্ণয়,রোগের পর্যায় এবং এর তীব্রতার মূল্যায়ন
এ ধাপে রোগীর রোগের ইতিহাস,পরীক্ষা নীরিক্ষা ও Investigation এর দ্বারা এটা নিশ্চিত করতে হবে যে এটা ডেঙ্গী,যদি তা হয় তাহলে এটি কোন পর্যায়ে(febrile,critical or recovery) আছে তা নির্দিষ্ট করতে হবে,কোন বিপদ চিহ্ন আছে কিনা,রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা লাগবে কিনা সেটা ঠিক করতে হবে।
ধাপ ৩:
এখানে প্রথম কাজ হলো ডেঙ্গী রোগী ডায়াগনসিস হওয়ার সাথে সাথে তার সংক্রামকতা কমানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিতকরণ(Notification)
বিপদ চিহ্ন ও রেগেীগণকে ভাগকরণ:
ডেঙ্গী management এর জন্য রোগীদেরকে ৩
টি ভাগে ভাগ করা হয়;
Patient Group A: যেসব রোগীগণ ডেঙ্গীতে আক্রান্ত কিন্তু কোন বিপদ চিহ্ন বা warning sign নেই।এদের চিকিৎসা বাড়ীতেই সম্ভব যদি তারা ঠিকমত তরল জাতীয় খাবার দাবার খেতে পারে এবং প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর অন্তত ১বার পেসাব করে।
Patient Group B: যেসব রোগীদের কিছু বিপদ চিহ্ন থাকে তারা এই গোত্রে।এদের অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হবে।
বিপদ চিহ্নগুলো কীকী:
ক)রোগী যখন জ্বরহীন(afebrile) পর্যায়ে যায় ঠিক তার আগে বা পরে যদি রোগীর অবস্থার খুব একটা উন্নতি না হয় বা অবস্থা আরো খারাপের দিকে যায় ।
খ)রোগী যদি টানা বমি করতে থাকে
গ)রোগীর যদি পেটে খুব ব্যথা হয়
ঘ)রোগী যদি অবসাদগ্রস্থ বা অস্থির হয় বা হঠাৎ করে রোগীর আচার ব্যবহারে কোন পরিবর্তন হয়
ঙ)যদি রক্তপাত হয় যেমন; নাক দিয়ে রক্ত পরা বা epistaxis,কলো পায়খানা,রক্তবমি,গাঢ় রঙের পেশাব বা রক্ত মিশ্রিত পেশাব করা,মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় বেশি রক্ত যাওয়া
চ)মাথা ঝিমঝিম করা বা মাথা ঘোরা(giddiness)
ছ)মাথা ও পা যদি ম্লান,ঠান্ড,আঠালো হয়(Pale,cold and clammy head and feet)
জ)৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে যদি পেশাব না করে বা কম পেশাব করে।
ঝ)যকৃত যদি তার স্বভাবিক মাত্রা হতে ২ সে,মি, এর বেশি বাড়ে।
ঞ)হেমাটোক্রিট যদি baseline হতে ২০% বড়ে।
এসব লক্ষণযুক্ত রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করে চিৎিসা করতে হবে।
আবার কিছু রোগী যেমন শিশু বাচ্চা, গর্ভবতী, বয়স্কলোক,ডায়বেটিসের রোগী,উচ্চরক্তচাপেরে রোগী, heart failure, renal failure,অতিরিক্ত ওজনের (Obese) রোগী, এবং ক্রোনিক কোন রক্তকণিকা ভঙ্গনজাতীয় রোগ যেমন sickle cell anemia এসব রোগীদের অবশ্যই বিপদচিহ্ন না থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
আবার কোন রোগী যিনি একাকী বসবাস করেন কিংবা স্থাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির স্থান হতে অনেক দুরে থাকেন সেসব রোগীদেরও বিপদ চিহ্ন না থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে হবে।
Patient Group C: এই গোত্রের রোগীরা সবচাইতে ঝুকিতে থাকে,তাদের যত তারাতারি সম্ভব চিকিৎসা শুরু করতে হয় এবং অবশ্যই তাদের জরুরি ভাবে উন্নত জায়গায় রেফার তরতে হয়।
এসব রোগীদের;
*Severe plasma leakage হয় এবং Dengue Shock এ চলে যায় সাথে শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে।
*বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গে অকার্যতা ধরা পরে যেমন liver damage,renal impairement
*মায়োকার্ডাইটিস,হার্ট বড় হয়ে যাওয়া,মস্তিষ্কের প্রদাহ হতে পারে
*Metabolic acidosis,Hypocalcemia হতে পারে।
ডেঙ্গীতে দু ধরণের Shock হতে পারে যা রোগীর সঠিক চিকিৎসা জানার জন্য জরুরী যথা,
ক) Compensated shock: এতে রোগীর জ্ঞান ঠিক থাকে,হাত পা ঠান্ড,নারীর গতি দুর্বল ও বেশি থাকে,রক্তচাপ স্বভাবিক থাকে,রোগী ঘনঘন শ্বাস নেয়,পেশাবের পরিমাণ কমে যায়,capillary refilling time ২সেকেন্ডের বেশি হয়।
খ) Decompensated বা Hypotensive Shock: এখানে রোগীর মানসিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।রোগী অস্থির থাকতে পারে বা একেবারে অবসাদ গ্রস্থ থাকতে পারে।রোগীর নারীর গতি পাওয়া যায় না বা পেলেও তার গতি অনেক বেশি এবং ক্ষীণ,রোগীর রক্তচাপ অনেক কম থাকে বা রক্তচাপ পাওয়া যায় না।চামড়া কুচকানো থাকে এবং হাত পা ঠান্ডা ও আঠালো হয়।Capillary refilling time অনেক বেশি হয়।রোগীর পেশাব একদম হয় না বা খুব কম পরিমাণ হয়(oliguria or anuria)।রোগী মুখ খুলে হা করে নি:শ্বাস নিতে পারে(Kussmaul's breathing)
মূল চিকিৎসা রোগী কোন গ্রুপে পরে A,B নাকি C তার উপরই চিকিৎসা নির্ভর করে।
(To be continued)
Reference:
National Guideline for Clinical Management of Dengue Syndrome,4th edition,2018,pp 24-27
No comments:
Post a Comment