#Dengue
(দ্বিতীয় পর্ব) চলমান
ডেঙ্গী রোগের চিকিৎসা
Group অনুযায়ী চিকিৎসা:
Group A: এই group কোন রোগী পরবে তা আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি।এছাড়া এও জেনেছি যে এ group এর রোগীদের সাধারণত বাড়ীতে রেখেই চিকিৎসা করা সম্ভব।
এসব রোগীদের চিকিৎসামূলক পরামর্শগুলো হলো;
*পরিমিত বিশ্রাম নেবে
*বেশি করে তরল জাতীয় খবার দাবার খাবে যেমন,দুধ,ফলের জুস(ডায়বেটিস থাকলে সাবধান হবে),খাবার স্যালাইন,ডাবের পানি ইত্যাদি তবে শুধু পানি কম খাবে কারণ এতে শরীরে লবণ পানির অসমতা দেখা দিতে পারে।
*জ্বরের জন্য কুসুম গরম পানি দিয়ে সারা শরীর মুছে দিতে হবে।
*জ্বরের জন্য শুধু প্যারাসিটামল খাবে তবে মনে রাখতে হবে তা যেন কোন ক্রমেই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৪ ঘণ্টায় ৩ gram আর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১০-১৫ mg/kg/dose এর বেশি নয়।(কারণ যেহেতু ডেঙ্গী রোগে যকৃত কিছুটা আক্রান্ত হয় সুতরাং প্যারাসিটামল বেশি খেলে যকৃত অধিকতর ক্ষতির সমুক্ষীণ হতে পারে।)
*কিছু ঔষধ এড়িয়ে চলবে যথা,
ক)অ্যাসপিরিন,মেফেনিমিক অ্যাসিড,আইবুপ্রফেন সহ যেকোন ধরণের ননস্টেরয়ডোল অ্যান্টিইনফ্লামাটরি ড্রাগস জাতীয় ব্যথার ঔষধ
খ)স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ যেমন প্রেডনিসোলন
গ)অ্যান্টিবায়োটিক
*রোগীর কোন সময় যদি পূর্বে উল্লেখিত বিপদচিহ্ন দেখা দেয় তাহলে সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে যেমন,রক্তপাতের চিহ্ন যথা rash,কালো পায়খানা,নাক দিয়ে রক্ত পরা,রক্তবমি,মেয়েদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্ত যাওয়া ইত্যাদি;প্রায়ই বমি করে বা কোন কিছু পান করতে না পারে;পেটে খুব বেশি ব্যথা;ঘুম ভাব,মানসিক অবস্থার পরিবর্তন;ম্লান,ঠান্ড,আঠালো চামড়া;শ্বাসকষ্ট;বসা বা শোয়া হতে উঠলে মাথা ঘোড়ানো,৪-৬ ঘণ্টার মধ্যে পেশাব না হওয়া।
Group B:এই group এ যারা পরবে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
*প্রথমে Baseline হেমাটোক্রিট করে নিতে হবে(CBC পরীক্ষাটি করলে সেখানে হেমাটোক্রিট উল্লেখ থাকে)
* রোগীকে বেশি বেশি তরল খেতে বলতে হবে(গ্রুপ A এর মত)
*যদি রোগী পরিমিত তরল না খেতে পারে বা বমি করে বা খেতে পারলেও হেমাটোক্রিট baseline হতে ১০-২০% বেড়ে যায় তাহলে শিরায় ফ্লুইড(IV Fluid) দিতে হবে।
*রোগী যদি Shock এর দিকে যায় বা যাবে বলে মনে হয় তবেও IV fluid দিতে হবে।
ফ্লুইড দেয়ার নীতিমালা:
কীকী ফ্লুইড দেয়া যায়:
১)ক্রিস্টালয়েড:
ক)0.9% Normal saline
খ)5% Dextrose in Ringer's lactate sloution
গ) 5% Dextrose in aceted Ringer's solution
ঘ) Harmtman's solution
ঙ) 0.45% Normal saline (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে)
২)কলয়েড:
ক)Dextran 40
খ)Hemaceel
গ)Plasma
ঘ)Blood & Blood Components
ঙ)Human Albumin
-শিশুদের ক্ষেত্রে (৬ বছরের কম) 0.45% Normal saline বাকিদের ক্ষেত্রে isotonic crystaloid তথা ,0.9% Normal saline,5% lactetate Ringer's solution,5% acetate Ringer's solution,Hartman's solution ইত্যাদি দিতে হবে।
- যদি খুব বেশি Plasma leakage হয় এবং Crystalloid এ Response না করে সেক্ষেত্রে হাইপারটনিক সলিউশন (Osmolarity 300mOsm/l) যেমন Dextran 30 ব্যবহার করতে হয়।
-রক্তের চলাচল ঠিক রাখার জন্য Maintainence+5% of dehydration এভাবে fluid দিতে হবে।কোন রোগী Shock এ থাকলে তার ক্ষেত্রে fluid দেয়ার স্থায়ীত্ব ২৪ হতে ৪৮ ঘণ্টা আর Shock না থাকলে তার ক্ষেত্রে স্থায়ীত্ব একটু বেশি তবে ৬০হতে ৭২ ঘণ্টার বেশি না।(কারণ যারা এখনো Shock এ যায় নি তারা কেবল plasma leakage পর্যায়ে প্রবেশ করেছে,অপরদিকে Shock এ থাকলে তারা already এই পর্যায়টি পার করে এসেছে।
-মোটাসোটা লোকদের fluid দেয়ার সময় আদর্শ শরীরের ওজন মাফিক দিতে হবে।
Fluid কতখানি দরকার তার হিসাব:
-মুখে এবং শিরায় মোট প্রতিদিন Fluid এর পরিমাণin critical phase(48 hours)=M+5% defecit
যেখানে M হলো প্রতিদিনের জন্য maintainence fluid যা হিসেব করা হয় Holliday-Segar formula দিয়ে(নিচে দেখুন)
5% defecit= 50ml/kg (upto 50 kg)
যেমন একজন ৫০kg ওজনের ব্যক্তির 5% defecit হবে= 50*50=2500ml
Holliday-Segar Formula:
প্রতি ঘণ্টায় maintenance fluid কতখানি লাগবে তা আমরা এই formula দিয়ে বের করতে পারি।
Fromula টি হলো:
4ml/kg/hour for first 10kg body weight
+2ml/kg/hour for next 10kg body weight
+1 ml/kg/hour for subsequent body weight
এখন একজন 50 kg ওজনের ব্যক্তির জন্য হিসাবটি হবে 4*10+2*10+30*1=40+20+30=90ml/hour or 2160ml/24 hour
তাহলে ঘণ্টায় 50 kg ওজনের একজন ব্যক্তির মোট Fluid দরকার= M+5%defecit
=2160+2500
=4660ml
*এখন ৫০ kg ওজনের একজন ব্যক্তির(যিনি Shock এ নেই) হিসাবকৃত fluid ৪৮ ঘণ্টায় দিতে হবে।
*প্রথমে 1.5ml/kg/hour or 40ml/hour or 12/minute (for adult) করে Fluid শুরু করতে হবে। ৬ ঘণ্টা fluid দেয়ার পর vital Signs(pulse,BP,respiration,urine output etc) স্বাভাবিক আছে কিনা দেখতে হবে।যদি স্বাভাবিক থাকে তাহলে উল্লেখিত হরে fluid ৪৮ ঘণ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
*যদি Vital sign স্বভাবিক না হয় তবে 3ml/kg/hour (80ml/hour or 20drops/min) করে পরবর্তী আরে ৬ ঘণ্টা দিতে হবে।এভবে পরবর্তী প্রতি ৬ ঘণ্টা পরপর vital sign যদি Stable না হয় তবে 5ml/kg/hour(adult 120ml/hour or 30drops/min) এর পর stable না হলে 7/ml/k/hour(Adult 200ml/hour or 50drops/min) পর্যন্ত fluid দিতে হবে।
*রোগীকে প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর followup করতে হবে।Fluid বাড়ানোর কোন পর্যায়ে যদি ৬ ঘণ্টা রোগীর vital sign সমূহ stable থাকে তাহলে সেখান হতে পর্যায়ক্রমে Fluid এর rate কমাতে হবে।অর্থাৎ 7ml/kg/hour পেলে followup এ যদি vital sign যদি stable থাকে তবে 5ml/kg/hour এরপর 3ml/kg/hour তারপর 1.5ml/kg/hour এভাবে কমাতে হবে।তবে মনে রাখতে হবে রোগীকে অবশ্যই ৪৮ঘণ্টা fluid দিতে হবে।
*রোগীর ১ হতে ২ ঘণ্টা পর পর vital signs;৪ হতে ৬ ঘণ্টা পরপর পেশারবর পরিমাণ;fluid দেয়ার আগে পরে এবং ৬ হতে ১২ ঘণ্টা পরপর হেমাটােক্রিট;রক্তে গ্লুকোজের পনরমাণ;এবং কোন অঙ্গের damage চিন্তা করলে ঐ অঙ্গের পরীক্ষা ইত্যাদি নিয়মিত করতে হবে।
*খুবই জরুরি যেটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে platelet কমে গেলেও(Thrombocytopenia) platelet transfusion এর প্রয়োজন নেই।যদি রোগীর কোন urgent অপারেশনের দরকার হয় এবং তার যদি Severe thrombocytopenia থাকে বা treating Physician এর Clinical jugdement এ যদি মনে হয় platelet transfusion দরকার কেবল তখনি platelet transfusion দিতে হবে
আজ এ পর্যন্তই
পরবর্তী পর্বে আমরা Group C এর চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিষয় আলোচনা করবো।
Reference:
National Guideline for Clinical Management of Dengue Syndrome,4th Edition,pp 31-39
No comments:
Post a Comment